ফের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস

Apr 16, 2018 04:11 pm

ফের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস

রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকা থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলেনে নেতৃত্ব দেয়া তিন নেতাকে ডিবি পুলিশ তুলে নেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা দু’দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনেরও হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর হোসেন বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন করায় আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিত্তিহীন মামলা দিয়েছে। দাবি সত্ত্বেও তা প্রত্যাহার হয়নি। আগামী ২ দিনের মধ্যে সব মামলা প্রত্যাহার না হলে ছাত্রসমাজ আবার আন্দোলনে নামবে।’



তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। এটি সহ্য করতে না পেরে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত বানানোর অপপ্রচারে নেমেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশকে অস্থিতিশীল করতেই তারা এ চক্রান্ত করছে।’

নূর হোসেন আবারও দাবি করেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বাসভবনে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী হামলা করেনি। বরাবরের মতই আমরা এ হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বলছি- আমি বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহাম্মদ মহসীন হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আমার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

আন্দোলনের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘ছাত্রশিবির বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি জাতীয় দৈনিক মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছে। তারা লিখেছে, আমি সূর্যসেন হলে ২০১২ সালে ছিলাম। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ভর্তিই হয়েছি ২০১৩ সালে।’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সেটিই করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণার দেয়ার পরই আমরা আন্দোলন থেকে সরে গেছি। অথচ আমাদের বিএনপি-জামায়াত বানানো হচ্ছে। ছাত্রসমাজকে বিতর্কিত করা হচ্ছে, এর চেয়ে আর লজ্জার কি আছে!’