চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাংলাদেশের চেয়ে ১৬২ দেশে বেশি

Feb 08, 2018 07:11 am

চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাংলাদেশের চেয়ে ১৬২ দেশে বেশি

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বর্তমান বয়সসীমা বিশ্বের ১৬২টি দেশের সর্বনিম্ন বয়সের চেয়েও পাঁচ বছর কম। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো উন্নত দেশে চাকরির সর্বোচ্চ বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছর। হাতে গোনা বিশ্বের কয়েকটি দেশে চাকরির সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর হলেও বাংলাদেশে তার চেয়েও কমিয়ে ৩০ বছরে রাখা হয়েছে। দেশের গড় আয়ু, মাথাপিছিু আয়সহ সার্বিক সূচক বাড়লেও বাড়ানো হয়নি এ বয়সসীমা। যা দেশের লাখো বেকারের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কান্না মুছে তাই চাকরির সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ করার জোর দাবি তুলেছে হাজারো চাকরি প্রত্যাশী।


বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ বছর করার জোর দাবিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৫৯ বছর। পার্শবর্তী দেশ ভারতে (পশ্চিমবঙ্গ) বয়সসীমা ৪০ বছর। উন্নত দেশ ফ্রান্সেও চাকরির এ বয়স ৪০ বছর।

এছাড়া চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৫৫ বছর রাখা হয়েছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে। এ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন, অস্ট্রেলিয়া, মালায়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কাতার, ওমান, কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি দেশ। একমাত্র দেশ সুইডেন চাকরির বয়স ৪৭ বছর রেখেছে। চাকরির বয়স ৪৫ বছর রেখেছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা।

এছাড়া চাকরির সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর রেখেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। যার মধ্যে কাতার, তাইওয়ান, এঙ্গোলা, ইতালী ও নরওয়ে উল্লেখযোগ্য।

বিশ্বের উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের সবকিছু যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন চাকরির এ বয়সসীমা ৩০ বছরে আটকে রাখাকে নিজেদের জন্য দূর্ভাগ্য বলে মনে করছেন চাকরি প্রত্যাশি হাজারো শিক্ষিত যুবক। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে তারা দাবির পক্ষে তাদের যুক্তি ও বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, দেশের গড় আয়ু যখন ৪৫ বছর ছিল, তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭ বছর, যখন ৫০ বছর ছাড়ালো, তখন প্রবেশের বয়স ৩০ বছর হলো। বর্তমানে গড় আয়ু ৭১ হলে চাকরিতে প্রবেশের বয়স কত হওয়া উচিত?

সংগঠনটির সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর, এ সীমানা প্রাচীর বাংলাদেশের লাখো ছাত্র সমাজকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুব সমাজ যখন উপেক্ষিত তখন বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্পিকার থাকাবস্থায় ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে যুব সমাজ আশার আলো দেখেছিল। কিন্তু সে আলোয় আজো আমাদের পথ দেখা হলো না।

ইমতিয়াজ হোসেন জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ২১তম বৈঠকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর করার সুপারিশ করে। নবম জাতীয় সংসদে ১৪তম অধিবেশনে ৩৫ বছর করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই থেকে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ইমতিয়াজ বলেন, এই দাবিতে গত ১০ জানুয়ারি হতে প্রেসক্লাবের সামনে আমরা অবস্থান করছি। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরণ অনশন পালন করছি। এরই মধ্যে আমাদের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যাদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। সরকার এরপরও দাবি না মানলে পরবর্তীতে আমরা আত্মহত্যা ছাড়া কোন উপয় দেখছি না।

সংগঠনের সহ-সভাপতি মামুনূর রশিদ কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ভাই আমরা সাধারণ পরিবারের ছেলে, সাধারণ ছাত্র। আমরা অনেক কষ্ট করে লেখা-পড়া করেছি। কেন আমরা বেকার থাকবো? আমাদের দেশে পার্বত্য জেলার নাগরিকরা ৪০ বছর পর্যন্ত চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পায়। নার্সদের সুযোগ রয়েছে ৩৬ বছর পর্যন্ত। প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের ৩৫ বছর পর্যন্ত। বিভাগীয় প্রার্থীদের ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত সুযোগ রয়েছে। এছাড়া উপ-জাতি, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা, ডাক্তার ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ৩২ বছরেও চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ আছে। কিন্তু যত প্রতিবন্ধকতা আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রদের ক্ষেত্রে। বিশ্বের কোন দেশেই এমন চিত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না। গড় আয়ু ৫০ বছর থাকাবস্থায় আমাদের চাকরির বয়স ৩০ বছর করা হয়েছে। এখন ৭১ বছর গড় আয়ু হয়েও আমাদের চাকরির বয়স একই রাখা হয়েছে। এটা হতে পারে না। এ বয়সসীমা অবশ্যই বাড়াতে হবে।

সংগঠনের সদস্য সঞ্জয় দাস বলেন, আমাদের দাবি তো সম্পূর্ণ যৌক্তিক। কেন সরকার মানবে না? সরকার যদি বলতে পারে আমাদের দাবি অযৌক্তিক, তবে আর কখনও রাস্তায় দাঁড়িয়ে এভাবে দাবি জানাবো না। আর যদি যৌক্তিকই হয়, তবে যত দ্রুত এ দাবি মেনে নেওয়া হোক এ দাবিই জানায়।

সংগঠনের অন্য সদস্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্লাবন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন জটের কারণে আমাদের দেশে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে ২৫ থেকে ২৭ বছর লাগে। পড়াশোনা শেষ করে মাত্র দুই থেকে তিন বছর সুযোগ পাই চাকরির পড়াশোনার জন্য। চাকরিতে আবেদনের সময়সীমা ৩৫ বছর করলে শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙিক্ষত লক্ষে পৌঁছাতে পারবে।

প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি করা এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দাবি আদায়ে আন্দোলন করে যাবো। কারণ এটা আমাদের নৈতিক দাবি। একুশে টিভি