বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ডিপার্টমেন্ট অব বিসিএস' বিসিএস পরীক্ষা ও একটি অশনি সংকেত!

Oct 19, 2017 03:43 pm

বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ডিপার্টমেন্ট অব বিসিএস' বিসিএস পরীক্ষা ও একটি অশনি সংকেত!

ফেসবুকে S.F. U. Ahmed লিখেছেন,

বিশ্ববিদ্যালয়ে 'ডিপার্টমেন্ট অব বিসিএস' বিসিএস পরীক্ষা ও একটি অশনি সংকেত !!!

বিশ্ববিদ্যালয়ে এতো এতো ডিপার্টমেন্ট না খুলে 'ডিপার্টমেন্ট অব বিসিএস' খুললেই তো হয়। দশ সেমিস্টারে এমপিথ্রি, প্রফেসর্স কিংবা ওরাকল এর সিরিজ গুলো সিলেবাসে রাখা চলে। আমরা সবাই 'বিসিএস বিভাগে' পড়ে ক্যাডার হয়ে দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করতাম।

উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো একটা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া, সে বিষয়ে জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞান উন্নয়ন কিংবা জ্ঞানের সম্প্রসারণ । সুদূর দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছে নীলক্ষেতের প্রফেসর্স বা ওরাকল সিরিজ । ক্লাস এর অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ক্লাস এ লেকচার না শুনে, ক্লাস এ মনোযোগ না দিয়ে এমপি থ্রি পড়ে, অনার্সে ও পড়ে, মাস্টার্সে ও পড়ে, আবার পড়াশুনা শেষ করে পাঁচ বছর সেই একই বইগুলো পড়ে যা কিনা দশম শ্রেণীর আগেই শেষ করার কথা । ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়ে ক্লাস এ বসে বসে প্রফেসর্স সিরিজ পড়ে কেবল মেজিস্ট্রেট হয়ে ভ্রাহ্মমাণ আদালত পরিচালনা করবে এই স্বপ্নে । ৬ বছর এমবিবিএস পড়ে ফরেন ক্যাডার হয়েছে দেখে যে বাহবা দিচ্ছেন, উনি তো আমাদের চিকিৎসা করবেন না কিন্তু একই পজিশন এর জন্য কত ছাত্রছাত্রী যে মেডিকেল এর বই বাদ দিয়ে এমপিথ্রি পড়ে আমাদের চিকিৎসা করবেন সেটা ভেবেছেন কি?? ছাত্রছাত্রীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই, সমস্যা ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার উদ্দেশ্য কী, বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য কোন দক্ষতা গুলো দরকার সেটা পিএসসি কে নতুন করে ভাবতে হবে । এই পরীক্ষা এমন ভাবে সাজানো দরকার যাতে করে বাংলাদেশের লাখ লাখ তরুণের দেশ ও জাতিকে দেয়ার মতো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ১২ টি বছর শুধুমাত্র ঐ তথাকথিত সিরিজ পড়ে কাটাতে না হয়ে । এখানে শুধু এনালিটিক্যাল স্কিল কিংবা মানসিক দক্ষতা যাচাই করা যেতে পারে; জিম্যাট, জি আর ই অথবা আইবিএ এর পরীক্ষার মতো । কেউ এই পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেই লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী ৪-৫ মাস পড়বে। এতে স্ব স্ব বিষয়ের প্রতি মনোযোগ বাড়বে, বাড়বে ছাত্রছাত্রীদের বহুমুখীতা, সৃজনশীলতা আর উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা ।

নিজেদের প্রচারের জন্য আমাদের গণমাধ্যম সুযোগ বুঝে বিসিএস কে খবরের উপজীব্য বানিয়েছে । সার্কুলার হবে থেকে শুরু করে গেজেট পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ দিন একই বিসিএস নিয়ে নিউজ হয়। ছাত্রছাত্রীরা আর অভিভাবকরা ভাবছেন চারদিকে শুধু বিসিএস আর বিসিএস, প্রতি মাসেই শত শত সন্তান প্রশাসন আর পুলিশ ক্যাডারে ঢুকছে । ছোট বেলা থেকে বাবা মা যে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্ন দেখতো তারাও এখন ছেলে মেয়েকে এসপির চেয়ারে দেখার স্বপ্ন দেখে ।

ত্রুটিপূর্ণ বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি আর বিসিএস হুজুগ দেশ ও জাতির জন্য যে অশনি সংকেত সেটা আমাদের নীতি নির্ধারকরা বুঝতে না পারলে দেশের উচ্চশিক্ষায় শুধু ধস ই নামবেনা বিশ্ব রেঙ্কিং এ আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কে দূরবীন দিয়ে ও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কয়জন ক্যাডার হলো সেই রেঙ্কিং দেখে আত্মতৃপ্তিতে ভুগবে ছাত্রছাত্রীরা ।
প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে তার নিজস্ব সাবজেক্ট ভালোভাবে পড়তে দিন, বিসিএস এর বাছাই পদ্ধতি পরিবর্তন করুন যাতে কাউকে এমপিথ্রি মুখী হতে না হয় ।

আমার এই লেখা বিসিএস এর বিরুদ্ধে না, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার কেন সাধারণ ক্যাডারে আসলো সে জন্য ও না । আমি সেই পরীক্ষা পদ্ধতির বিরুদ্ধে যা সবাইকে স্ব স্ব বিষয়ে অমনোযোগী করে কেবল নীলক্ষেতের তথাকথিত সিরিজ পড়ে জীবনের মূল্যবান ১২ টি বছর নষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করে ।

 

কুমিল্লার মেয়ে সুবর্ণা পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন। তিনি একজন ডাক্তার, পড়েছেন ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে। ফেসবুকে এখন তাকে ঘিরে চলছে অালোচনা, অনেকেই ব্যাপারটি মানতে পারছেন না। হতবাক হয়েছি অামিও। কেউ প্রশ্ন তুলছেন,জাতি কি তাহলে একজন মেধাবী ডাক্তারকে হারাচ্ছে? অারেক দল বলছেন,তাই যদি হবে তাহলে তিনি অাগে থেকেই এমন কোন বিষয়ে পড়তে পারতেন যা পররাষ্ট্র সার্ভিসের সাথে যায়। অারেক পক্ষ তাকে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। অামরা যখন সুবর্ণাকে ঘিরে এসব কথা বলে যাচ্ছি,তখন অামরা কেহই তার বক্তব্য নেয়ার প্রয়োজন বোধ করছিনা,তাই সমালোচনা হয়ে যাচ্ছে পুরোপুরি একতরফা। সুবর্ণা শখের বশেও তো বিসিএস দিয়ে থাকতে পারেন। অথবা এটাই হচ্ছে তার অাসল passion! অামাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাউন্টিং বিভাগে একজন শিক্ষক অাছেন যিনি কয়েকবারই বিসিএসে প্রথম হয়েছেন কিন্তু এখনো তিনি শিক্ষকতা ছাড়েন নি। ভাইভা বোর্ড তার এই কারন জানতে চাইলে তিনি নাকি বলতেন, তিনি অাগের মত মেধা অার যোগ্যতা রাখেন কিনা তা যাচাইয়ের জন্যই এই চেষ্টা!

মশাই,অাপনি এমন একটা সমাজে বসে ডাক্তার সুবর্ণার সমালোচনা করছেন যেখানে কোন সিদ্ধান্তই অাপনি একা নিতে পারেন না। অামাদের কয়টা শিক্ষার্থী বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে সে তার মত করে পড়তে পারছে বা স্বপ্ন বুনতে পারছে? এ সংখ্যাটা ঠিক কত? অামাদের সমাজ একটা প্রবণতাকে অাঁকড়ে ধরে এগোচ্ছে।এখানে শিক্ষার্থীর ইচ্ছেটা গৌণ, কে ডাক্তার হবেন,কে ইঞ্জিনিয়ার হবেন,কে অামলা হবেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা অাপনার উপর নাযিল হয়। এমনও তো হতে পারে সুবর্ণা ডাক্তার হওয়ার কোন স্বপ্নই দেখেনি কখনো? হতে পারে সমাজ,পরিবার বা স্বপ্ন চাপিয়ে দেয়া দৈত্য তাকে ডাক্তার বানিয়েছে। উল্টোটাও হতে পারে। এখন সুবর্ণার পেশা পছন্দই বলে দেবে তার স্বপ্নটা অাসলে কি ছিল। সমাজের সবচেয়ে সেরা ছাত্রটাই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হয় এখনো এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য। মেধাবী সুবর্ণা তার পছন্দ মাফিক পেশায় ভাল করবেন এই প্রত্যাশা রাখছি।

অাপনি মানেন বা না মানেন, অামাদের সমাজ এখনো বৃটিশ অামলের চিন্তাধারা থেকে বেরুতে পারেনি। অাইসিটি,বাণিজ্য, কৃষি অার বুদ্ধিভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বজুড়ে একটা বিপ্লব হয়ে গেলেও সমাজ এই বিষয়গুলো accept করতে শিখেনি। এজন্য একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বা একজন অ্যাগরিকালচারিস্টকে গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থা মেনে নেয়ার যুগে পৌঁছায়নি। কারন সমাজ তার ধারা থেকে বের হতে পারছেনা,বলতে পারেন এখানে একধরনের স্বৈরতন্ত্রের ভূত চেপে বসে অাছে যা সরানোর দায়িত্ব কেউ নেয়না। অামার মনে পড়ে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্সে ভর্তি হই, তখন নিজের এলাকায় খুব বিব্রত অবস্থায় পড়ি। কারন গ্রামে হিউজ ইনফরমেশন গ্যাপ। প্রথমে মায়ের কাছে,যখন তাকে বললাম অামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছি, অাম্মা কহিলেন ' ঢাকায় চান্স পাইছস বুঝলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম কি'!!! অাম্মার এই কথা মনে পড়লে এখনো হেসে ওঠি। একদিন গ্রামের এক গ্রাজুয়েশন করা চাচা জিজ্ঞেস করেন, 'তুই কিসে পড়ছ'? বললাম 'ফিনান্স'। এইডা অাবার কি? অনেক চেষ্টা করেও বোঝানো যায়নি তাকে। চাচার শেষ কথা ' 'কোন ল (অাইন)কলেজে ভর্তি হইতে পারলিনা'? অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত ডিমান্ডের দিক দিয়ে ফিনান্স',ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ অার ফার্মেসি সবচেয়ে এলিট সাবজেক্ট। অবশ্য অামার পড়াশোনাটাও হয়েছে নিজের ইচ্ছের বাইরে। প্রচলিত উর্ধ্বচাপ অার সমাজের এলিট শ্রেনীতে থাকা ও চাকরির লোভ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। ইচ্ছে ছিল ইংরেজি,অাইন,সাংবাদিকতা অথবা IR এ পড়া,অার স্বপ্ন ছিল লেখক হবো। বাকীটা অন্যদিন বলব।

অামাদের গ্রামের একটা ছেলে এবার ঢাবিতে চান্স পেয়েছে। সেদিন সে ফোন করে জানালো 'tourism and hospitality management ' পেয়েছে। অামি অাশংকায় অাছি না জানি তাকেও অামার মত বিব্রত হতে হয়।

অামার মূলকথা হচ্ছে, পড়াশোনা অার পেশা দুটোই ব্যক্তির পছন্দ মাফিক হতে হবে, নতুবা সুখ ও সৃজনশীলতা, কোনটাই অাসবেনা।


Sujon Hasan
ভাই একটা ব্যাপার কি সব প্রতিষ্টানে ভালো খারাপ আছে। ।।। আর বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট এমন না যে কোন ভাসিটি এই সেই রকম সুযোগ সুবিধা দেই। ।।তাহলে বলা যাইতো এইটা খারাপ আর ওইটা ভালো। ।।আচ্ছা আমি ধরে নিলাম বাংলাদেশ এর বেস্ট ৪০০০+ ছাত্র ঢাকা ভাসিটিতে পড়ে ।।। সেইখানে বিসিএস এইবার ক্যাডার নিয়েছে ২৩০০+ সেই হিসেবে মিনিমাম ২০০০ ঢাকা ভাসিটির হওয়া উচিৎ ছিল কি না। ।।। কিন্তু দেখা যাবে যে অজো পাড়ায় নতুন একটা পাবলিক হইছে সেইখান থেকেও ৪-৫ জন বিসিএস হইছে। ।।। তাহলে তারা কেন হইছে অবশ্যই নিজের যোগ্যতায় হইছে। ।।। হুম আপনে গব করতে পারতেন যদি ঢাকা ভাসিটি গবেষণা করে তাক লাগাই দিয়েছে। ।। তাহলে ভাবতাম যে না এইখানে কিছু মাল পড়ে। ।।সুযোগ সুবিধার দিক থেকে আমার মনে হই ঢাকা ভাসিটি সব থেকে বেশি পাই। ।।। কিন্তু দেখেন বাংলাদেশ কৃষিতে কৃষি ভাসিটির কতো অবদান তারা কতো কি জাতের ধান ও ফল এর জাত উদ্ভাবন করছে। ।। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন যেকোন প্রযুক্তিগত কম্পিটিশন কিংবা আন্তজাতিক কম্পিটিশন ঢাকা ভাসিটির থেকে অন্য প্রাইভেট ভাসিটি কিংবা পাবলিক ভাসিটির বেশি সাফল্য দেখা যাই। ।।। বাংলাদেশ এর চাকরির কোন পরিক্ষায় মেধা দেখানোর জায়গা না সবাই মু্খস্থ করে পড়ে যার ভাগ্য একটু সহায়তা করে সেই টিকে। ।।। এমসিকিউ কোন সময় সত্যিকার মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতি না। ।।। আমার কাছে মনে হই সরকারি চাকরিতে ব্যক্তিগত যোগ্যতায় প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক না। ।।।কাউকে ছোট করার জন্যে এই পোস্ট না।।।।

 

Salahuddin Kader
এবারের বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন একজন নারী ডাক্তার। পাশ করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল থেকে।

বুঝুন এবার, দেশের শিক্ষার গতি কোনদিকে ডাইভার্ট হচ্ছে। এই যে দীর্ঘ ১৮ বছরের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে অর্জিত একাডেমিক শিক্ষাটা কোন কাজে আসছে? পররাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনে একজন ডাক্তারের কাজ কি? উনি কিভাবে এই সেক্টরের জটিল বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করবেন? যদিও উনার তীক্ষ্ণ মেধা রয়েছে,যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

বুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ার ছেলেটাও বিসিএস প্রশাসন কিংবা পররাষ্ট্র ক্যাডারের জন্য মুখিয়ে থাকে। যিনি ভার্সিটি লাইফে দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে ইলেক্ট্রিক্যাল,কম্পিউটার,সিভিল কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলোতে মজে থাকেন,ধীরে ধীরে ওই বিষয়ের স্পেশালিষ্ট হয়ে ওঠেন তিনিই কিনা পাশ করে বের হয়ে যাওয়ার পর বিসিএস ক্যাডার হতে বাংলা,সাঃজ্ঞা,ইংরেজি,গণিত নিয়ে মেতে ওঠেন নতুন করে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা সাবজেক্টের ক্ষেত্রেও (শিক্ষা ক্যাডার ব্যতীত) চিত্রটা মোটামুটি একই। চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বড়ভাই প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ ভাবুন উনার কর্মক্ষেত্র থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কত বিস্তর তফাত! যেখানে উনার একজন বায়োটেকনোলজিস্ট হয়ে নতুন নতুন প্রকরণ সৃষ্টি ও রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে গবেষণা করার কথা ছিলো! তাই না?

সম্ভাবনাময় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ফার্মাসিস্ট,বায়োকেমিস্ট,পদার্থবিদ,গণিতবিদ,কৃষিবিদ, পরিবেশ বিজ্ঞানী সবারই লক্ষ্য থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। সবাই তাই প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জনের পরই আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন এই বিসিএস নামক সোনার হরিণের পেছনে। এর কারণও নিশ্চয়ই আছে।

বর্তমানে বিসিএস ক্যাডারদের লোভনীয় বেতন, ক্ষমতা,সম্মান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বেশি। আবার অনেকের কাছে অর্থের চেয়ে ক্ষমতাটাই মূখ্য। এই যে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের হিড়িক, এতবছর ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞানের জটিল বিষয়ের গবেষণা করে এসে হঠাৎ পেশা বদল, তার পেছনে লোভনীয় আমলাতন্ত্র এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতাই মূখ্য।

একজন মেধাবী ছাত্র যখন দেখতে পায়,তার বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্রে তার চেয়ে জুনিয়র কিংবা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা তাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে,তখন সে এটা মানতে পারে না। আত্মসম্মানে গিয়ে লাগে। লাগাটাই তো স্বাভাবিক। তাই নয় কি?

তাহলে এই ধারা কি চলতেই থাকবে? অবশ্যই! কেননা বাংলাদেশের শিক্ষা ও চাকুরীব্যবস্থার গোড়াতেই গলদ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোটি কোটি টাকা ভর্তুকী দিয়ে ৪-৫-৬ বছর পর সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়ে ঠেঙিয়ে বের করে দিচ্ছে। অথচ বিশাল এই চাকুরীপ্রত্যাশী ঢলের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যর্থ। সার্টিফিকেটসর্বস্ব এই জনস্রোত তাই বেকারত্বই বাড়ায়। পরিবারের হাল ধরতে না পেরে হতাশার আগুনে পুড়ে অগণিত মেধাবী। সবাই তো আর বিসিএস ক্যাডার হতে পারে না! ইঞ্জিনিয়ার হয়েও তাই ছুটে ব্যাংক জবের পিছু...

সত্যিই তো! উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ!


Tareq Shafique
সব প্রতিষ্ঠান ই ভালো। কোন প্রতিষ্ঠান কাউকে ক্যাডার হতে সাহায্য করেনা।আপনি যদি ভাল করেন তাহলে ক্রেডিট অই প্রতিষ্ঠানের অটোমেটিক হয়ে যাবে। তাই আমাদের আর এই সব সংকীর্ণ মনোভাব থাকা উচিৎ নয়। সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব না। আমি কোন অভিজ্ঞ কেউ নই তবুও নিজের নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করলাম। এই যে আমরা প্রাইভেট, পাব্লিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ছোট বাচ্চাদের মত একে অপর কে পঁচাই, কেউ কাউকে দেখতে পারিনা এটা কী শিক্ষিত মানুষদের পক্ষে এই আচরন শোভা পায়? আমরা যারা এইসব নিয়ে পরে আছি এগুলো আমাদের জন্য ক্ষতি, ব্যক্তিত্ব নষ্ট করছে। অনেকে এসব সস্তা চিন্তা না করে শুধু পড়া শুনা করে যাচ্ছেন আজ আল্লাহ্‌র রহমতে ক্যাডার বা ভাল চাকুরী করছেন।নিজে সম্মানিত হতে চান,তাহলে প্রথমে অন্যকে সম্মান দিতে হবে।আর একটি কথা আমিই সেরা এটা বাদ দিন। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেলে দুক্ষিত। সবায় আলোকিত মানুষ হই,দেশকে আলোকিত করি এই হোক আমাদের পাথেয়। ধন্যবাদ সবায় ভাল থাকবেন।


Sujon Hasan
ভাই একটা ব্যাপার কি সব প্রতিষ্টানে ভালো খারাপ আছে। ।।। আর বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট এমন না যে কোন ভাসিটি এই সেই রকম সুযোগ সুবিধা দেই। ।।তাহলে বলা যাইতো এইটা খারাপ আর ওইটা ভালো। ।।আচ্ছা আমি ধরে নিলাম বাংলাদেশ এর বেস্ট ৪০০০+ ছাত্র ঢাকা ভাসিটিতে পড়ে ।।। সেইখানে বিসিএস এইবার ক্যাডার নিয়েছে ২৩০০+ সেই হিসেবে মিনিমাম ২০০০ ঢাকা ভাসিটির হওয়া উচিৎ ছিল কি না। ।।। কিন্তু দেখা যাবে যে অজো পাড়ায় নতুন একটা পাবলিক হইছে সেইখান থেকেও ৪-৫ জন বিসিএস হইছে। ।।। তাহলে তারা কেন হইছে অবশ্যই নিজের যোগ্যতায় হইছে। ।।। হুম আপনে গব করতে পারতেন যদি ঢাকা ভাসিটি গবেষণা করে তাক লাগাই দিয়েছে। ।। তাহলে ভাবতাম যে না এইখানে কিছু মাল পড়ে। ।।সুযোগ সুবিধার দিক থেকে আমার মনে হই ঢাকা ভাসিটি সব থেকে বেশি পাই। ।।। কিন্তু দেখেন বাংলাদেশ কৃষিতে কৃষি ভাসিটির কতো অবদান তারা কতো কি জাতের ধান ও ফল এর জাত উদ্ভাবন করছে। ।। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন যেকোন প্রযুক্তিগত কম্পিটিশন কিংবা আন্তজাতিক কম্পিটিশন ঢাকা ভাসিটির থেকে অন্য প্রাইভেট ভাসিটি কিংবা পাবলিক ভাসিটির বেশি সাফল্য দেখা যাই। ।।। বাংলাদেশ এর চাকরির কোন পরিক্ষায় মেধা দেখানোর জায়গা না সবাই মু্খস্থ করে পড়ে যার ভাগ্য একটু সহায়তা করে সেই টিকে। ।।। এমসিকিউ কোন সময় সত্যিকার মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতি না। ।।। আমার কাছে মনে হই সরকারি চাকরিতে ব্যক্তিগত যোগ্যতায় প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক না। ।।।কাউকে ছোট করার জন্যে এই পোস্ট না।।।।

 

Salahuddin Kader
এবারের বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন একজন নারী ডাক্তার। পাশ করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল থেকে।

বুঝুন এবার, দেশের শিক্ষার গতি কোনদিকে ডাইভার্ট হচ্ছে। এই যে দীর্ঘ ১৮ বছরের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে অর্জিত একাডেমিক শিক্ষাটা কোন কাজে আসছে? পররাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনে একজন ডাক্তারের কাজ কি? উনি কিভাবে এই সেক্টরের জটিল বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করবেন? যদিও উনার তীক্ষ্ণ মেধা রয়েছে,যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

বুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ার ছেলেটাও বিসিএস প্রশাসন কিংবা পররাষ্ট্র ক্যাডারের জন্য মুখিয়ে থাকে। যিনি ভার্সিটি লাইফে দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে ইলেক্ট্রিক্যাল,কম্পিউটার,সিভিল কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলোতে মজে থাকেন,ধীরে ধীরে ওই বিষয়ের স্পেশালিষ্ট হয়ে ওঠেন তিনিই কিনা পাশ করে বের হয়ে যাওয়ার পর বিসিএস ক্যাডার হতে বাংলা,সাঃজ্ঞা,ইংরেজি,গণিত নিয়ে মেতে ওঠেন নতুন করে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা সাবজেক্টের ক্ষেত্রেও (শিক্ষা ক্যাডার ব্যতীত) চিত্রটা মোটামুটি একই। চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বড়ভাই প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ ভাবুন উনার কর্মক্ষেত্র থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কত বিস্তর তফাত! যেখানে উনার একজন বায়োটেকনোলজিস্ট হয়ে নতুন নতুন প্রকরণ সৃষ্টি ও রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে গবেষণা করার কথা ছিলো! তাই না?

সম্ভাবনাময় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ফার্মাসিস্ট,বায়োকেমিস্ট,পদার্থবিদ,গণিতবিদ,কৃষিবিদ, পরিবেশ বিজ্ঞানী সবারই লক্ষ্য থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। সবাই তাই প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জনের পরই আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন এই বিসিএস নামক সোনার হরিণের পেছনে। এর কারণও নিশ্চয়ই আছে।

বর্তমানে বিসিএস ক্যাডারদের লোভনীয় বেতন, ক্ষমতা,সম্মান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বেশি। আবার অনেকের কাছে অর্থের চেয়ে ক্ষমতাটাই মূখ্য। এই যে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের হিড়িক, এতবছর ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞানের জটিল বিষয়ের গবেষণা করে এসে হঠাৎ পেশা বদল, তার পেছনে লোভনীয় আমলাতন্ত্র এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতাই মূখ্য।

একজন মেধাবী ছাত্র যখন দেখতে পায়,তার বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্রে তার চেয়ে জুনিয়র কিংবা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা তাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে,তখন সে এটা মানতে পারে না। আত্মসম্মানে গিয়ে লাগে। লাগাটাই তো স্বাভাবিক। তাই নয় কি?

তাহলে এই ধারা কি চলতেই থাকবে? অবশ্যই! কেননা বাংলাদেশের শিক্ষা ও চাকুরীব্যবস্থার গোড়াতেই গলদ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোটি কোটি টাকা ভর্তুকী দিয়ে ৪-৫-৬ বছর পর সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়ে ঠেঙিয়ে বের করে দিচ্ছে। অথচ বিশাল এই চাকুরীপ্রত্যাশী ঢলের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যর্থ। সার্টিফিকেটসর্বস্ব এই জনস্রোত তাই বেকারত্বই বাড়ায়। পরিবারের হাল ধরতে না পেরে হতাশার আগুনে পুড়ে অগণিত মেধাবী। সবাই তো আর বিসিএস ক্যাডার হতে পারে না! ইঞ্জিনিয়ার হয়েও তাই ছুটে ব্যাংক জবের পিছু...

সত্যিই তো! উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ!


Tareq Shafique
সব প্রতিষ্ঠান ই ভালো। কোন প্রতিষ্ঠান কাউকে ক্যাডার হতে সাহায্য করেনা।আপনি যদি ভাল করেন তাহলে ক্রেডিট অই প্রতিষ্ঠানের অটোমেটিক হয়ে যাবে। তাই আমাদের আর এই সব সংকীর্ণ মনোভাব থাকা উচিৎ নয়। সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব না। আমি কোন অভিজ্ঞ কেউ নই তবুও নিজের নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করলাম। এই যে আমরা প্রাইভেট, পাব্লিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ছোট বাচ্চাদের মত একে অপর কে পঁচাই, কেউ কাউকে দেখতে পারিনা এটা কী শিক্ষিত মানুষদের পক্ষে এই আচরন শোভা পায়? আমরা যারা এইসব নিয়ে পরে আছি এগুলো আমাদের জন্য ক্ষতি, ব্যক্তিত্ব নষ্ট করছে। অনেকে এসব সস্তা চিন্তা না করে শুধু পড়া শুনা করে যাচ্ছেন আজ আল্লাহ্‌র রহমতে ক্যাডার বা ভাল চাকুরী করছেন।নিজে সম্মানিত হতে চান,তাহলে প্রথমে অন্যকে সম্মান দিতে হবে।আর একটি কথা আমিই সেরা এটা বাদ দিন। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেলে দুক্ষিত। সবায় আলোকিত মানুষ হই,দেশকে আলোকিত করি এই হোক আমাদের পাথেয়। ধন্যবাদ সবায় ভাল থাকবেন।

Sujon Hasan
ভাই একটা ব্যাপার কি সব প্রতিষ্টানে ভালো খারাপ আছে। ।।। আর বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট এমন না যে কোন ভাসিটি এই সেই রকম সুযোগ সুবিধা দেই। ।।তাহলে বলা যাইতো এইটা খারাপ আর ওইটা ভালো। ।।আচ্ছা আমি ধরে নিলাম বাংলাদেশ এর বেস্ট ৪০০০+ ছাত্র ঢাকা ভাসিটিতে পড়ে ।।। সেইখানে বিসিএস এইবার ক্যাডার নিয়েছে ২৩০০+ সেই হিসেবে মিনিমাম ২০০০ ঢাকা ভাসিটির হওয়া উচিৎ ছিল কি না। ।।। কিন্তু দেখা যাবে যে অজো পাড়ায় নতুন একটা পাবলিক হইছে সেইখান থেকেও ৪-৫ জন বিসিএস হইছে। ।।। তাহলে তারা কেন হইছে অবশ্যই নিজের যোগ্যতায় হইছে। ।।। হুম আপনে গব করতে পারতেন যদি ঢাকা ভাসিটি গবেষণা করে তাক লাগাই দিয়েছে। ।। তাহলে ভাবতাম যে না এইখানে কিছু মাল পড়ে। ।।সুযোগ সুবিধার দিক থেকে আমার মনে হই ঢাকা ভাসিটি সব থেকে বেশি পাই। ।।। কিন্তু দেখেন বাংলাদেশ কৃষিতে কৃষি ভাসিটির কতো অবদান তারা কতো কি জাতের ধান ও ফল এর জাত উদ্ভাবন করছে। ।। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন যেকোন প্রযুক্তিগত কম্পিটিশন কিংবা আন্তজাতিক কম্পিটিশন ঢাকা ভাসিটির থেকে অন্য প্রাইভেট ভাসিটি কিংবা পাবলিক ভাসিটির বেশি সাফল্য দেখা যাই। ।।। বাংলাদেশ এর চাকরির কোন পরিক্ষায় মেধা দেখানোর জায়গা না সবাই মু্খস্থ করে পড়ে যার ভাগ্য একটু সহায়তা করে সেই টিকে। ।।। এমসিকিউ কোন সময় সত্যিকার মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতি না। ।।। আমার কাছে মনে হই সরকারি চাকরিতে ব্যক্তিগত যোগ্যতায় প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক না। ।।।কাউকে ছোট করার জন্যে এই পোস্ট না।।।।

 

Salahuddin Kader
এবারের বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন একজন নারী ডাক্তার। পাশ করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল থেকে।

বুঝুন এবার, দেশের শিক্ষার গতি কোনদিকে ডাইভার্ট হচ্ছে। এই যে দীর্ঘ ১৮ বছরের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে অর্জিত একাডেমিক শিক্ষাটা কোন কাজে আসছে? পররাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনে একজন ডাক্তারের কাজ কি? উনি কিভাবে এই সেক্টরের জটিল বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করবেন? যদিও উনার তীক্ষ্ণ মেধা রয়েছে,যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

বুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ার ছেলেটাও বিসিএস প্রশাসন কিংবা পররাষ্ট্র ক্যাডারের জন্য মুখিয়ে থাকে। যিনি ভার্সিটি লাইফে দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে ইলেক্ট্রিক্যাল,কম্পিউটার,সিভিল কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলোতে মজে থাকেন,ধীরে ধীরে ওই বিষয়ের স্পেশালিষ্ট হয়ে ওঠেন তিনিই কিনা পাশ করে বের হয়ে যাওয়ার পর বিসিএস ক্যাডার হতে বাংলা,সাঃজ্ঞা,ইংরেজি,গণিত নিয়ে মেতে ওঠেন নতুন করে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা সাবজেক্টের ক্ষেত্রেও (শিক্ষা ক্যাডার ব্যতীত) চিত্রটা মোটামুটি একই। চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বড়ভাই প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ ভাবুন উনার কর্মক্ষেত্র থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কত বিস্তর তফাত! যেখানে উনার একজন বায়োটেকনোলজিস্ট হয়ে নতুন নতুন প্রকরণ সৃষ্টি ও রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে গবেষণা করার কথা ছিলো! তাই না?

সম্ভাবনাময় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ফার্মাসিস্ট,বায়োকেমিস্ট,পদার্থবিদ,গণিতবিদ,কৃষিবিদ, পরিবেশ বিজ্ঞানী সবারই লক্ষ্য থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। সবাই তাই প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জনের পরই আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন এই বিসিএস নামক সোনার হরিণের পেছনে। এর কারণও নিশ্চয়ই আছে।

বর্তমানে বিসিএস ক্যাডারদের লোভনীয় বেতন, ক্ষমতা,সম্মান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বেশি। আবার অনেকের কাছে অর্থের চেয়ে ক্ষমতাটাই মূখ্য। এই যে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের হিড়িক, এতবছর ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞানের জটিল বিষয়ের গবেষণা করে এসে হঠাৎ পেশা বদল, তার পেছনে লোভনীয় আমলাতন্ত্র এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতাই মূখ্য।

একজন মেধাবী ছাত্র যখন দেখতে পায়,তার বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্রে তার চেয়ে জুনিয়র কিংবা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা তাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে,তখন সে এটা মানতে পারে না। আত্মসম্মানে গিয়ে লাগে। লাগাটাই তো স্বাভাবিক। তাই নয় কি?

তাহলে এই ধারা কি চলতেই থাকবে? অবশ্যই! কেননা বাংলাদেশের শিক্ষা ও চাকুরীব্যবস্থার গোড়াতেই গলদ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোটি কোটি টাকা ভর্তুকী দিয়ে ৪-৫-৬ বছর পর সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়ে ঠেঙিয়ে বের করে দিচ্ছে। অথচ বিশাল এই চাকুরীপ্রত্যাশী ঢলের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যর্থ। সার্টিফিকেটসর্বস্ব এই জনস্রোত তাই বেকারত্বই বাড়ায়। পরিবারের হাল ধরতে না পেরে হতাশার আগুনে পুড়ে অগণিত মেধাবী। সবাই তো আর বিসিএস ক্যাডার হতে পারে না! ইঞ্জিনিয়ার হয়েও তাই ছুটে ব্যাংক জবের পিছু...

সত্যিই তো! উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ!


Tareq Shafique
সব প্রতিষ্ঠান ই ভালো। কোন প্রতিষ্ঠান কাউকে ক্যাডার হতে সাহায্য করেনা।আপনি যদি ভাল করেন তাহলে ক্রেডিট অই প্রতিষ্ঠানের অটোমেটিক হয়ে যাবে। তাই আমাদের আর এই সব সংকীর্ণ মনোভাব থাকা উচিৎ নয়। সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব না। আমি কোন অভিজ্ঞ কেউ নই তবুও নিজের নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করলাম। এই যে আমরা প্রাইভেট, পাব্লিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ছোট বাচ্চাদের মত একে অপর কে পঁচাই, কেউ কাউকে দেখতে পারিনা এটা কী শিক্ষিত মানুষদের পক্ষে এই আচরন শোভা পায়? আমরা যারা এইসব নিয়ে পরে আছি এগুলো আমাদের জন্য ক্ষতি, ব্যক্তিত্ব নষ্ট করছে। অনেকে এসব সস্তা চিন্তা না করে শুধু পড়া শুনা করে যাচ্ছেন আজ আল্লাহ্‌র রহমতে ক্যাডার বা ভাল চাকুরী করছেন।নিজে সম্মানিত হতে চান,তাহলে প্রথমে অন্যকে সম্মান দিতে হবে।আর একটি কথা আমিই সেরা এটা বাদ দিন। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেলে দুক্ষিত। সবায় আলোকিত মানুষ হই,দেশকে আলোকিত করি এই হোক আমাদের পাথেয়। ধন্যবাদ সবায় ভাল থাকবেন।


Sujon Hasan
ভাই একটা ব্যাপার কি সব প্রতিষ্টানে ভালো খারাপ আছে। ।।। আর বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট এমন না যে কোন ভাসিটি এই সেই রকম সুযোগ সুবিধা দেই। ।।তাহলে বলা যাইতো এইটা খারাপ আর ওইটা ভালো। ।।আচ্ছা আমি ধরে নিলাম বাংলাদেশ এর বেস্ট ৪০০০+ ছাত্র ঢাকা ভাসিটিতে পড়ে ।।। সেইখানে বিসিএস এইবার ক্যাডার নিয়েছে ২৩০০+ সেই হিসেবে মিনিমাম ২০০০ ঢাকা ভাসিটির হওয়া উচিৎ ছিল কি না। ।।। কিন্তু দেখা যাবে যে অজো পাড়ায় নতুন একটা পাবলিক হইছে সেইখান থেকেও ৪-৫ জন বিসিএস হইছে। ।।। তাহলে তারা কেন হইছে অবশ্যই নিজের যোগ্যতায় হইছে। ।।। হুম আপনে গব করতে পারতেন যদি ঢাকা ভাসিটি গবেষণা করে তাক লাগাই দিয়েছে। ।। তাহলে ভাবতাম যে না এইখানে কিছু মাল পড়ে। ।।সুযোগ সুবিধার দিক থেকে আমার মনে হই ঢাকা ভাসিটি সব থেকে বেশি পাই। ।।। কিন্তু দেখেন বাংলাদেশ কৃষিতে কৃষি ভাসিটির কতো অবদান তারা কতো কি জাতের ধান ও ফল এর জাত উদ্ভাবন করছে। ।। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন যেকোন প্রযুক্তিগত কম্পিটিশন কিংবা আন্তজাতিক কম্পিটিশন ঢাকা ভাসিটির থেকে অন্য প্রাইভেট ভাসিটি কিংবা পাবলিক ভাসিটির বেশি সাফল্য দেখা যাই। ।।। বাংলাদেশ এর চাকরির কোন পরিক্ষায় মেধা দেখানোর জায়গা না সবাই মু্খস্থ করে পড়ে যার ভাগ্য একটু সহায়তা করে সেই টিকে। ।।। এমসিকিউ কোন সময় সত্যিকার মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতি না। ।।। আমার কাছে মনে হই সরকারি চাকরিতে ব্যক্তিগত যোগ্যতায় প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক না। ।।।কাউকে ছোট করার জন্যে এই পোস্ট না।।।।

 

Salahuddin Kader
এবারের বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন একজন নারী ডাক্তার। পাশ করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল থেকে।

বুঝুন এবার, দেশের শিক্ষার গতি কোনদিকে ডাইভার্ট হচ্ছে। এই যে দীর্ঘ ১৮ বছরের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে অর্জিত একাডেমিক শিক্ষাটা কোন কাজে আসছে? পররাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনে একজন ডাক্তারের কাজ কি? উনি কিভাবে এই সেক্টরের জটিল বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করবেন? যদিও উনার তীক্ষ্ণ মেধা রয়েছে,যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

বুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ার ছেলেটাও বিসিএস প্রশাসন কিংবা পররাষ্ট্র ক্যাডারের জন্য মুখিয়ে থাকে। যিনি ভার্সিটি লাইফে দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে ইলেক্ট্রিক্যাল,কম্পিউটার,সিভিল কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলোতে মজে থাকেন,ধীরে ধীরে ওই বিষয়ের স্পেশালিষ্ট হয়ে ওঠেন তিনিই কিনা পাশ করে বের হয়ে যাওয়ার পর বিসিএস ক্যাডার হতে বাংলা,সাঃজ্ঞা,ইংরেজি,গণিত নিয়ে মেতে ওঠেন নতুন করে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা সাবজেক্টের ক্ষেত্রেও (শিক্ষা ক্যাডার ব্যতীত) চিত্রটা মোটামুটি একই। চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বড়ভাই প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ ভাবুন উনার কর্মক্ষেত্র থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কত বিস্তর তফাত! যেখানে উনার একজন বায়োটেকনোলজিস্ট হয়ে নতুন নতুন প্রকরণ সৃষ্টি ও রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে গবেষণা করার কথা ছিলো! তাই না?

সম্ভাবনাময় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ফার্মাসিস্ট,বায়োকেমিস্ট,পদার্থবিদ,গণিতবিদ,কৃষিবিদ, পরিবেশ বিজ্ঞানী সবারই লক্ষ্য থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। সবাই তাই প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জনের পরই আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন এই বিসিএস নামক সোনার হরিণের পেছনে। এর কারণও নিশ্চয়ই আছে।

বর্তমানে বিসিএস ক্যাডারদের লোভনীয় বেতন, ক্ষমতা,সম্মান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বেশি। আবার অনেকের কাছে অর্থের চেয়ে ক্ষমতাটাই মূখ্য। এই যে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের হিড়িক, এতবছর ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞানের জটিল বিষয়ের গবেষণা করে এসে হঠাৎ পেশা বদল, তার পেছনে লোভনীয় আমলাতন্ত্র এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতাই মূখ্য।

একজন মেধাবী ছাত্র যখন দেখতে পায়,তার বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্রে তার চেয়ে জুনিয়র কিংবা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা তাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে,তখন সে এটা মানতে পারে না। আত্মসম্মানে গিয়ে লাগে। লাগাটাই তো স্বাভাবিক। তাই নয় কি?

তাহলে এই ধারা কি চলতেই থাকবে? অবশ্যই! কেননা বাংলাদেশের শিক্ষা ও চাকুরীব্যবস্থার গোড়াতেই গলদ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোটি কোটি টাকা ভর্তুকী দিয়ে ৪-৫-৬ বছর পর সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়ে ঠেঙিয়ে বের করে দিচ্ছে। অথচ বিশাল এই চাকুরীপ্রত্যাশী ঢলের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যর্থ। সার্টিফিকেটসর্বস্ব এই জনস্রোত তাই বেকারত্বই বাড়ায়। পরিবারের হাল ধরতে না পেরে হতাশার আগুনে পুড়ে অগণিত মেধাবী। সবাই তো আর বিসিএস ক্যাডার হতে পারে না! ইঞ্জিনিয়ার হয়েও তাই ছুটে ব্যাংক জবের পিছু...

সত্যিই তো! উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ!


Tareq Shafique
সব প্রতিষ্ঠান ই ভালো। কোন প্রতিষ্ঠান কাউকে ক্যাডার হতে সাহায্য করেনা।আপনি যদি ভাল করেন তাহলে ক্রেডিট অই প্রতিষ্ঠানের অটোমেটিক হয়ে যাবে। তাই আমাদের আর এই সব সংকীর্ণ মনোভাব থাকা উচিৎ নয়। সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব না। আমি কোন অভিজ্ঞ কেউ নই তবুও নিজের নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করলাম। এই যে আমরা প্রাইভেট, পাব্লিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ছোট বাচ্চাদের মত একে অপর কে পঁচাই, কেউ কাউকে দেখতে পারিনা এটা কী শিক্ষিত মানুষদের পক্ষে এই আচরন শোভা পায়? আমরা যারা এইসব নিয়ে পরে আছি এগুলো আমাদের জন্য ক্ষতি, ব্যক্তিত্ব নষ্ট করছে। অনেকে এসব সস্তা চিন্তা না করে শুধু পড়া শুনা করে যাচ্ছেন আজ আল্লাহ্‌র রহমতে ক্যাডার বা ভাল চাকুরী করছেন।নিজে সম্মানিত হতে চান,তাহলে প্রথমে অন্যকে সম্মান দিতে হবে।আর একটি কথা আমিই সেরা এটা বাদ দিন। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেলে দুক্ষিত। সবায় আলোকিত মানুষ হই,দেশকে আলোকিত করি এই হোক আমাদের পাথেয়। ধন্যবাদ সবায় ভাল থাকবেন।

Sujon Hasan
ভাই একটা ব্যাপার কি সব প্রতিষ্টানে ভালো খারাপ আছে। ।।। আর বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপট এমন না যে কোন ভাসিটি এই সেই রকম সুযোগ সুবিধা দেই। ।।তাহলে বলা যাইতো এইটা খারাপ আর ওইটা ভালো। ।।আচ্ছা আমি ধরে নিলাম বাংলাদেশ এর বেস্ট ৪০০০+ ছাত্র ঢাকা ভাসিটিতে পড়ে ।।। সেইখানে বিসিএস এইবার ক্যাডার নিয়েছে ২৩০০+ সেই হিসেবে মিনিমাম ২০০০ ঢাকা ভাসিটির হওয়া উচিৎ ছিল কি না। ।।। কিন্তু দেখা যাবে যে অজো পাড়ায় নতুন একটা পাবলিক হইছে সেইখান থেকেও ৪-৫ জন বিসিএস হইছে। ।।। তাহলে তারা কেন হইছে অবশ্যই নিজের যোগ্যতায় হইছে। ।।। হুম আপনে গব করতে পারতেন যদি ঢাকা ভাসিটি গবেষণা করে তাক লাগাই দিয়েছে। ।। তাহলে ভাবতাম যে না এইখানে কিছু মাল পড়ে। ।।সুযোগ সুবিধার দিক থেকে আমার মনে হই ঢাকা ভাসিটি সব থেকে বেশি পাই। ।।। কিন্তু দেখেন বাংলাদেশ কৃষিতে কৃষি ভাসিটির কতো অবদান তারা কতো কি জাতের ধান ও ফল এর জাত উদ্ভাবন করছে। ।। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন যেকোন প্রযুক্তিগত কম্পিটিশন কিংবা আন্তজাতিক কম্পিটিশন ঢাকা ভাসিটির থেকে অন্য প্রাইভেট ভাসিটি কিংবা পাবলিক ভাসিটির বেশি সাফল্য দেখা যাই। ।।। বাংলাদেশ এর চাকরির কোন পরিক্ষায় মেধা দেখানোর জায়গা না সবাই মু্খস্থ করে পড়ে যার ভাগ্য একটু সহায়তা করে সেই টিকে। ।।। এমসিকিউ কোন সময় সত্যিকার মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতি না। ।।। আমার কাছে মনে হই সরকারি চাকরিতে ব্যক্তিগত যোগ্যতায় প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক না। ।।।কাউকে ছোট করার জন্যে এই পোস্ট না।।।।

 

Salahuddin Kader
এবারের বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন একজন নারী ডাক্তার। পাশ করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল থেকে।

বুঝুন এবার, দেশের শিক্ষার গতি কোনদিকে ডাইভার্ট হচ্ছে। এই যে দীর্ঘ ১৮ বছরের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে অর্জিত একাডেমিক শিক্ষাটা কোন কাজে আসছে? পররাষ্ট্র কিংবা প্রশাসনে একজন ডাক্তারের কাজ কি? উনি কিভাবে এই সেক্টরের জটিল বিষয়গুলো দক্ষতার সাথে হ্যান্ডেল করবেন? যদিও উনার তীক্ষ্ণ মেধা রয়েছে,যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

বুয়েট পাশ ইঞ্জিনিয়ার ছেলেটাও বিসিএস প্রশাসন কিংবা পররাষ্ট্র ক্যাডারের জন্য মুখিয়ে থাকে। যিনি ভার্সিটি লাইফে দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে ইলেক্ট্রিক্যাল,কম্পিউটার,সিভিল কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলোতে মজে থাকেন,ধীরে ধীরে ওই বিষয়ের স্পেশালিষ্ট হয়ে ওঠেন তিনিই কিনা পাশ করে বের হয়ে যাওয়ার পর বিসিএস ক্যাডার হতে বাংলা,সাঃজ্ঞা,ইংরেজি,গণিত নিয়ে মেতে ওঠেন নতুন করে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা সাবজেক্টের ক্ষেত্রেও (শিক্ষা ক্যাডার ব্যতীত) চিত্রটা মোটামুটি একই। চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বড়ভাই প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ ভাবুন উনার কর্মক্ষেত্র থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কত বিস্তর তফাত! যেখানে উনার একজন বায়োটেকনোলজিস্ট হয়ে নতুন নতুন প্রকরণ সৃষ্টি ও রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে গবেষণা করার কথা ছিলো! তাই না?

সম্ভাবনাময় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ফার্মাসিস্ট,বায়োকেমিস্ট,পদার্থবিদ,গণিতবিদ,কৃষিবিদ, পরিবেশ বিজ্ঞানী সবারই লক্ষ্য থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। সবাই তাই প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট অর্জনের পরই আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন এই বিসিএস নামক সোনার হরিণের পেছনে। এর কারণও নিশ্চয়ই আছে।

বর্তমানে বিসিএস ক্যাডারদের লোভনীয় বেতন, ক্ষমতা,সম্মান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বহুগুণ বেশি। আবার অনেকের কাছে অর্থের চেয়ে ক্ষমতাটাই মূখ্য। এই যে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের হিড়িক, এতবছর ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞানের জটিল বিষয়ের গবেষণা করে এসে হঠাৎ পেশা বদল, তার পেছনে লোভনীয় আমলাতন্ত্র এবং কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতাই মূখ্য।

একজন মেধাবী ছাত্র যখন দেখতে পায়,তার বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্রে তার চেয়ে জুনিয়র কিংবা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা তাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে,তখন সে এটা মানতে পারে না। আত্মসম্মানে গিয়ে লাগে। লাগাটাই তো স্বাভাবিক। তাই নয় কি?

তাহলে এই ধারা কি চলতেই থাকবে? অবশ্যই! কেননা বাংলাদেশের শিক্ষা ও চাকুরীব্যবস্থার গোড়াতেই গলদ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোটি কোটি টাকা ভর্তুকী দিয়ে ৪-৫-৬ বছর পর সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়ে ঠেঙিয়ে বের করে দিচ্ছে। অথচ বিশাল এই চাকুরীপ্রত্যাশী ঢলের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যর্থ। সার্টিফিকেটসর্বস্ব এই জনস্রোত তাই বেকারত্বই বাড়ায়। পরিবারের হাল ধরতে না পেরে হতাশার আগুনে পুড়ে অগণিত মেধাবী। সবাই তো আর বিসিএস ক্যাডার হতে পারে না! ইঞ্জিনিয়ার হয়েও তাই ছুটে ব্যাংক জবের পিছু...

সত্যিই তো! উদ্ভট উঠের পিঠে চলেছে স্বদেশ!


Tareq Shafique
সব প্রতিষ্ঠান ই ভালো। কোন প্রতিষ্ঠান কাউকে ক্যাডার হতে সাহায্য করেনা।আপনি যদি ভাল করেন তাহলে ক্রেডিট অই প্রতিষ্ঠানের অটোমেটিক হয়ে যাবে। তাই আমাদের আর এই সব সংকীর্ণ মনোভাব থাকা উচিৎ নয়। সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব না। আমি কোন অভিজ্ঞ কেউ নই তবুও নিজের নিজস্ব অভিব্যক্তি প্রকাশ করলাম। এই যে আমরা প্রাইভেট, পাব্লিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ছোট বাচ্চাদের মত একে অপর কে পঁচাই, কেউ কাউকে দেখতে পারিনা এটা কী শিক্ষিত মানুষদের পক্ষে এই আচরন শোভা পায়? আমরা যারা এইসব নিয়ে পরে আছি এগুলো আমাদের জন্য ক্ষতি, ব্যক্তিত্ব নষ্ট করছে। অনেকে এসব সস্তা চিন্তা না করে শুধু পড়া শুনা করে যাচ্ছেন আজ আল্লাহ্‌র রহমতে ক্যাডার বা ভাল চাকুরী করছেন।নিজে সম্মানিত হতে চান,তাহলে প্রথমে অন্যকে সম্মান দিতে হবে।আর একটি কথা আমিই সেরা এটা বাদ দিন। আমার কথায় কেউ কষ্ট পেলে দুক্ষিত। সবায় আলোকিত মানুষ হই,দেশকে আলোকিত করি এই হোক আমাদের পাথেয়। ধন্যবাদ সবায় ভাল থাকবেন।


Kaium Rashel
সম্ভবত ৩৬ তমের পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত-
প্রথম জন ডাক্তার
দ্বিতীয় জন ইন্জিনিয়ার

এটা সত্যেই সুখকর নিউজ না-
কেন তারা নিজেদের প্রিয় প্রফেশন ছেড়ে এদিকে আসতেছেন সেটা সবার খুঁজে বের করা উচিত.....
দেশের সিস্টেমে কি এমন হলো যে-
একজন ছেলে বা মেয়ে তার ছোট বেলার লালিত স্বপ্ন ডাক্তারী/ইন্জিনিয়ারিং ছেড়ে এসব জায়গায় এসে হানা দিচ্ছে.......
অন্যে কাউকে ছোট করে বা নিজে অহংকার করে কিছুু বলতেছিনা-
আপনি যদি ডাক্তার/ইন্জিনিয়ারের ব্যাকগ্রাউন্ড খুঁজেন তবে ছোট বেলা থেকে স্কুল,কলেজ ও আজ অব্দি চোখে লাগার মতো পারফরমেন্স দেখতে পাবেন,
খোঁজ নিলে দেখবেন সে কোনদিন হয়তো ফাস্ট/সেকেন্ড/থার্ডের বাহির কখনো যায়নি.....

এই ছেলে বা মেয়েটি যখন গভমেন্ট সার্ভিসে গিয়ে বৈষম্যের শিকার হওয়াটা স্পষ্ট দেখতে পায় তখন তাদের ছোট বেলার লালিত স্বপ্নকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ঠেলতে হয়....:-(
যখন দেখে অতীতে একটু হলেও পিছনে থাকা কাউকে বর্তমানে সার্ভিসে গিয়ে প্রসাশনিক/অন্যে কোন ক্ষমতাবলে অযাচিতভাবে/শুধুমাত্র হ্যারেজ করার জন্য এদের উপর পাওয়ারের ছড়ি ঘুরাতে দেখে তখন স্বপ্নকে কনভার্ট করতে হয়.....:-(

পরিবর্তন দরকার দেশের সার্ভিস সেক্টরে-
একজন আরেকজনকে নূন্যতম সম্মানটুকু দেয়া দরকার,
অন্যেথায় সামনের দিকে ঝামেলা আরো বাড়বে...