সময় এসেছে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তর করার : ড. কামরুল হাসান মামুন

Oct 15, 2021 02:50 pm

সময় এসেছে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তর করার : ড. কামরুল হাসান মামুন

ড. কামরুল হাসান মামুন

বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের X জন শিক্ষক বা অমুকে বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায়। এইরকম সংবাদ আমাদের সাংবাদিকরা পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করছে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে প্রচার করছে।


এইরকম প্রচার প্রচারণা আমাদের নিকটতম দেশ ভারতে একদম নাই। আমার বেশ অনেক ভারতীয় বন্ধু আছে। আমি অন্তত কোন প্রচার প্রচারণা দেখিনি। অথচ ভারতে গবেষণার প্রতিটি ফিল্ডে বিশ্বসেরা গবেষক রয়েছেন। খোদ কলকাতাতেই আছেন অনেকে। অথচ আমাদের পত্রিকা আর ফেইসবুক খুললে দেখছি AD Scientific Index-এ সেরা গবেষকের তালিকায় নাম আছে। আচ্ছা এই AD Scientific Index কারা করেছে এবং কি উদ্যেশ্যে করেছে? এইটা প্রিডেটরি জার্নালের মত প্রিডেটরি রেঙ্কিং সিস্টেম! এরা এদের ব্যবসাটার পুঁজিই হলো প্রচার frenzy গবেষক। মানে পয়সা দিয়ে যেমন প্রিডেটরি জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশ করে নিজেদের বড় গবেষক ভাবে এখন আবার পয়সা দিয়ে ওই AD Scientific Index-এ নাম লিখিয়ে বিশ্বসেরা গবেষকদের লিস্টে নাম লিখিয়ে কেবল নিজেরাই পুলকিত হচ্ছে তাই না অন্যদেরও পুলকিত করতে চাচ্ছে।


সুখের বিষয় হলো এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার কোন সহকর্মীকে এই কাজে সামিল হতে দেখিনি। এমনকি বুয়েট কিংবা নর্থ সাউথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়েরও কাউকে দেখিনি। অন্তত আমার নজরে আসেনি। এখন বুঝতে পারছেন জেলায় জেলায় গন্ডায় গন্ডায় বিশ্ববিদ্যালয় খুললে কি হয়? কারা এইসব করে এটাই হলো আমাদের গবেষণার লেভেল বোঝার আসল ইনডেক্স। এইটা AD Scientific Index এর চেয়েও শক্তিশালী। আমি লক্ষ করছি হঠাৎ করে কোন পরম্পরা নেই অথচ ১ বছরে ১৫ টা ৩০ টা এমনকি ৪০ টা আর্টিকেল প্রকাশ কিংবা হঠাৎ করে কোন পরম্পরা ছাড়া কারো সাইটেশন ১ বছরে ২০০০ হয়ে যাওয়া কিভাবে সম্ভব? আগের বছরও যার সাইটেশন সংখ্যা ২০-৩০ টা ছিল তার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার উৎস কি?
আসলে AD Scientific Index, ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জ ইত্যাদি সব একই সূত্রে গাঁথা। যেই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই ধান্ধাবাজদের শিকার হতে পারে সেই দেশের সাধারণ জনগণ কেন হবে না? সত্যিকারের যারা সেরা গবেষক তারা কি টাকা খরচ করে এই তালিকায় ঢুকবে? এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যদি এই অবস্থা হয় সেই দেশের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমি শংকিত।


সম্প্রতি বিশ্বসেরা "নেচার" জার্নালে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে যার শিরোনাম "China’s clampdown on fake-paper factories picks up speed"! হ্যা এক সময় চীনই হলো এইসব প্রিডেটরি জার্নালের কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার। তবে এখন তাদের সরকার এই বিষয়ে অনেক কঠোর হয়েছে। তারা এইসব আর বরদাস্ত করবে না বলে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। আমাদেরও সময় হয়েছে কিছু একটা করা কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই যদি এমন হয় তাহলে বাকি দেশের জনগণকে আমি কিভাবে দোষ দিব?


সময় এসেছে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তর করার। বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মন্ধে যে ছবি জনগনের মানসপটে আঁকা হয়ে গেছে তা জাতির জন্য খবুই খারাপ এবং এটি কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে যদি কাটিয়ে উঠতে চাই আরকি। [লেখকের ফেসবুক থেকে]