ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা কে সেরা? পরিসংখ্যান কী বলছে

Jul 10, 2021 09:08 pm

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা কে সেরা? পরিসংখ্যান কী বলছে

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা কে সেরা? পরিসংখ্যান কী বলছে

মোট ম্যাচ ১১২
ব্রাজিলের জয়- ৪৬
আর্জেন্টিনার জয়- ৪০
ড্র - ২৬

বাংলাদেশ ফুটবলে ঢের পিছিয়ে। বিশ্বকাপে খেলবে সেই স্বপ্নটাও দেখার সাহস আমরা পাই না। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হলেই গোটা দেশ বিভক্ত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায়। কিন্তু কেন? এর বাইরেও অনেক নান্দনিক দল রয়েছে। জার্মানী, ইতালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, স্পেনসহ অনেক দেশ। একটু খোঁজার চেষ্টা কেন এই দুই দলেই আটকে আছি আমরা?

লাতিন আমেরিকার সেরা হবার লড়াই। আর সংঘাতের খবর এলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। এথেকে প্রমাণ হয় কতোটা ফুটবল পাগল আমরা।

ব্রাজিল সমর্থনের কারণ
ব্রাজিল বরাবরই শক্তিশালী দল। শিরোপার স্বাধ পেয়েছেন তারা সর্বাধিকবার। ভক্তরা কখনোই হতাশ হতে চান না। তেমনি ব্রাজিল ভক্তদের মাথা উঁচু করিয়েছেন পাঁচ-পাঁচ বার। উপহার দিয়েছেন পেলে, রোনালদিনহো, রোনালদো, রবিনহো, কাকা, নেইমারের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়। এছাড়াও পূর্বে পাঠ্য বইতে ‘কালো মানিক পেলে’ নামে একটি অধ্যায় ছিলো, যা থেকেও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে আমাদের মাঝে।

এছাড়াও বাংলাদেশে টেলিভিশন প্রত্যন্ত এলাকায় খুবই স্বল্প পরিমাণে ছড়িয়ে পরে ১৯৮০ সালের দিক থেকে। তবে তা সংখ্যায় খুবই কম। শুধু মাত্র টেলিভিশনে খেলা দেখবার জন্য মানুষ ছুটে যেতেন মাইল পথ। তখন ব্রাজিল তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। সর্বাধিক চ্যাম্পিয়নও বটে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও নান্দনিক ফুটবলের ভক্ত হয়ে ওঠেন তারা। আর বাংলাদেশে পত্রিকার গুরুত্ব বরাবরই ছিলো। বিশ্বসেরাদের খবরটাও ভক্তদের ভালোই সাড়া দিয়েছে।

আর্জেন্টিনা সমর্থনের কারণ
বর্তমান সময়ের সবথেকে নামী ফুটবলার মেসি। একবাক্যে স্বীকার করতেই হবে। তাকে ভালোই টক্কর দিয়ে চলেছেন পর্তুগীজ তারকা রোনালদো। কিন্তু এই তালিকায় ব্রাজিলের সুপার স্টার নেইমার অনেকটাই পিছিয়ে। শুধু তাই নয় ফুটবলের বরপুত্র ম্যারাডোনার নামটাও উজ্জ্বল হয়ে রবে আজীবন।

বাংলাদেশে যখন টেলিভিশন গ্রামে গ্রামে চলে আসতে থাকে তখন জোয়ার ছিলো ফুটবলের। এই সময়ে ম্যারাডোনা ঝলক দেখেছে বিশ্ব। আর বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পরেছে ম্যারাডোনা দ্যুতি। ১৯৭৮, ১৯৮৬ তে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। পরের বিশ্বকাপ ১৯৯২ সালেই রানার্সআপ। সেসময়ের ফুটবল জোয়ার ও ম্যারাডোনা ম্যাজিকই বাংলাদেশে ভক্ত তৈরি করেছে। আর এরপরই এলো মেসি। মূলত ম্যারাডোনা ম্যাজিক থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থন। আর তা জিইয়ে রেখেছেন মেসি।

আর লাতিন ফুটবলের ভক্ত আমরা। কারণ, ইউরোপীয়ান দেশগুলোতে খেলা হয় টোটাল ফুটবল। কিন্তু লাতিনে হয় তারকা নির্ভর খেলা। আর স্বাভাবতই ব্যক্তি তারকাকেই মানুষ মনে রাখে, ভালোবাসে।

আকাশি না হলুদ উৎসব? ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার স্বপ্নের ফাইনাল রাত পোহালেই

সৃজনশীল ফুটবল দিয়ে ইউরোপে গড়ে উঠেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। কিন্তু ফুটবলে যখন সমর্থন আর বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের কথায় আসবেন, তখন অবশ্যই ইউরোপ ছাপিয়ে লাতিন আমেরিকায় চলে যেতে হবে। যেখানে ফুটবল সম্রাট আর রাজপুত্রের জন্মভূমি। পেলে-ম্যারাডোনার পর হালের মেসি-নেইমাররা। ইউরোপে আধুনিক ফুটবলকে শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে লিওনেল মেসির কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মনে রাখবে। নেইমারও তার অংশ। ১৯৬০-৭০ দশকে দুই পায়ের নিদারুণ কারুকার্যে এডসন আরান্তেস দো নসিমেন্তো পেলে ইউরোপে নয়, ফুটবলের সিংহাসন গড়েছেন লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল। ১৯৮০-৯০ দশকের দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা জাতীয় দল ও ইউরোপ কাঁপিয়ে রাজপুত্র বনেছেন আর্জেন্টিনার হয়ে। তাই বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের কেউ সম্রাটের দেশ ব্রাজিলের পক্ষে, কেউ রাজপুত্রের দেশ আর্জেন্টিনার। বর্তমান সময়ে সে বাঁক মেসি-নেইমারকে ঘিরে। দুই দলের লড়াই যখন নিকটে, তাবত বিশ্ববাসী আবারো নড়েচড়ে বসেছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে আবারো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। বিখ্যাত মারাকানা

স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার ফাইনালে আগামীকাল সকাল ৬টায় মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও নেইমার জুনিয়রের ব্রাজিল।
ফুটবলের খুদে জাদুকর মেসির জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পাওনাটা শূন্য। ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সামনে নিজের পাওনা বুঝে নেয়ার সময় এসেছে আবার। নেইমার তো মুখিয়েই আছেন সাবেক সতীর্থের মুখোমুখি হতে। প্রমাণ করার সময় ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারেরও। বড় টুর্নামেন্টে ভেনিজুয়েলায় অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালই ছিল, দুই দলের শেষ কোনো ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া। ম্যাচটি ৩-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা।

এবারের কোপায় এখন পর্যন্ত অপরাজিত দুই দল। দাপটের সাথে গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে উভয়দল। কোয়ার্টারে ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে এবং সেমিতে কলম্বিয়ার বিপক্ষ টাইব্রেকারে গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজের বীরত্বে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। অন্য দিকে ব্রাজিল শেষ আটে চিলির বিপক্ষে ১-০ ও শেষ চারে পেরুর বিপক্ষে একই ব্যবধানের জয় নিয়ে ফাইনালে পা রাখে। নকআউটের দুই ম্যাচেই তিতের রক্ষাকবচ হয়েছিলেন লুকাস পাকুয়েতা। আসরে আর্জেন্টিনা ১১ গোলের বিপরীতে হজম করেছে তিনটি গোল। আর ব্রাজিল ১২ গোল দিয়েছে, নিজেদের জালে নিয়েছে দুই গোল।
সর্বমোট ১১১ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। যেখানে ৪৬ বার জিতে এগিয়ে আছে ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার জয় ৪০ ম্যাচে। ২৫ ম্যাচ শেষ হয়েছে সমতায়। শেষ ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, যেখানে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল আর্জেন্টাইনরা। তবে শেষ পাঁচ দেখায় তিনবার সেলেসাওরা ও দু’বার অ্যালবিসেলেস্তে জয় পায়।

কোপা আমেরিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শেষ শিরোপা জিতেছে ১৯৯৩ সালে। এরপর শিরোপা খরা। ২৮ বছরের শিরোপাহীন দলটির বিপক্ষে লড়বে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কোপার শিরোপা জিতেছে ৯ বার। ১৯৩৭ সালে উভয় দলের পয়েন্ট সমান হওয়ায় শিরোপা নির্ধারণী প্লে-অফ ম্যাচ হয়, যাতে ব্রাজিলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে অ্যালবিসেলেস্তেরা। তখন লিগভিত্তিক খেলা শেষে পয়েন্টের ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারিত হতো।

১৯৯১ সালে এ পদ্ধতিতে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন ও ব্রাজিল রানার্সআপ। ২০০৪ ও ২০০৭ সালে ব্রাজিল নকআউট পদ্ধতিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। ২০০৪ সালে ফাইনালে জমজমাট লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তের গোলে ব্রাজিল সমতায় ফিরে এবং টাইব্রেকারে ব্রাজিল ৪-২ গোলে জিতে যায়।

১৪ বছর পর আবারো মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। কে জিতবে এবার? ব্রাজিলের মাটিতে এর আগের পাঁচ কোপাতেই চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিকরা।
ইতিহাস বলে নকআউট সিস্টেমে আর্জেন্টিনা হারাতে পারে না ব্রাজিলকে। কিন্তু এবার এমন ঘটনার বিপরীত কিছু যে হবে না, তা বলা মুশকিল। কারণ বিপক্ষ দলে যে একজন লিওনেল মেসি রয়েছেন। এবারের কোপায় আর্জেন্টিনার ১১ গোলের মধ্যে ৯ গোলেই যা সরাসরি অবদান রয়েছে। চার গোলের পাশাপাশি পাঁচ অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রয়েছেন সবার আগে। শিরোপা নেশায় বিভোর এই জাদুকর যদি ফাইনালে জ্বলে ওঠেন, মারাকানা নদীর পানিও হয়তো দাবিয়ে রাখতে পারবে না। সাথে আছেন কোপায় তিন ম্যাচে তিন গোল করা লাউারো মার্টিনেজ। ডি পল-পাপু গোমেজরাও গোলে আছেন। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনির মাথাব্যথা থাকবে ডিফেন্স নিয়ে। নেইমারের ড্রিবলিং ট্যাকেল দিতে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ছিল তার অন্যতম ভরসা। তাকে ফাইনালেও না পাওয়ার সম্ভবনাই বেশি। ডি মারিয়াও ৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট নন।

অন্য দিকে নেইমারও রয়েছেন দারুণ ছন্দে। দুই গোলের পাশাপাশি তিন অ্যাসিস্ট। দুই গোল করা পাকুয়েতা ভালোই সঙ্গ দিচ্ছেন নেইমারকে। রিচার্লিসন, মার্কুইনহোস, ক্যাসিমিরোতো আছেনই। দুই দলের লাইনআপ ও ফর্ম রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে। টানা ১৯ ম্যাচে অপরাজিত স্কালোনির আর্জেন্টিনা, তিতের ব্রাজিলও শেষ ১৩ ম্যাচে হারেনি। ফল যাই হোক ‘সুপার ক্ল্যাসিকো’ তো আর সবসময় আসে না।